কম্পিউটার সবসময় আজকের মতো দেখতে বা কাজ করত না। ইতিহাসবিদ আর ইঞ্জিনিয়াররা কম্পিউটারের বিবর্তনকে পাঁচটি বড় "প্রজন্মে" ভাগ করেন, প্রতিটি প্রজন্ম নির্ধারিত হয় যন্ত্রের সার্কিট তৈরিতে ব্যবহৃত মূল প্রযুক্তি দিয়ে। এই প্রজন্মগুলো বুঝলে বোঝা যায় কেন আপনার পকেটের ফোনটি একসময় পুরো একটি ঘর জুড়ে থাকা যন্ত্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।
প্রথম দিকের ইলেকট্রনিক কম্পিউটারগুলো তথ্য জমা রাখতে আর প্রসেস করতে ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করত। একটি ভ্যাকুয়াম টিউব একটি প্রাথমিক ইলেকট্রনিক সুইচের মতো কাজ করত, কিন্তু প্রতিটির আকার প্রায় একটি বাল্বের সমান ছিল, প্রচুর তাপ তৈরি করত, আর প্রায়ই নষ্ট হয়ে যেত। ফলে প্রথম-প্রজন্মের কম্পিউটার ছিল বিশাল আকারের — প্রায়ই একটি সম্পূর্ণ ঘর জুড়ে থাকত — তৈরি ও চালাতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল, আর ঘনঘন খারাপ হয়ে যেত।
প্রোগ্রাম ইনপুট দেওয়া হতো পাঞ্চ কার্ড দিয়ে, আর ফলাফল বের হতো প্রিন্টআউটে — আজকের মতো কীবোর্ড বা স্ক্রিন তখন ছিল না। ENIAC, যা 1945 সালে সম্পন্ন হয়, এর অন্যতম সুপরিচিত উদাহরণ, যাতে হাজার হাজার ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করা হয়েছিল।
ট্রানজিস্টর-এর আবিষ্কার ভারী ভ্যাকুয়াম টিউবের জায়গায় নিয়ে এলো অনেক ছোট আর অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য একটি ইলেকট্রনিক সুইচ। ট্রানজিস্টর অনেক কম পাওয়ার খরচ করত, অনেক কম তাপ তৈরি করত, আর ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় খুব কমই নষ্ট হতো — যার মানে কম্পিউটার একই সাথে অনেক ছোট, দ্রুত, আর নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠতে পারল।
এই প্রজন্মেই এলো প্রাথমিক প্রোগ্রামিং ভাষা, যা যন্ত্রের সরাসরি নির্দেশাবলীর চেয়ে ইংরেজির অনেক কাছাকাছি ছিল, ফলে মানুষের পক্ষে যন্ত্রের ভেতরের ওয়্যারিং নিয়ে সরাসরি কাজ না করেই সফটওয়্যার লেখা সহজ হয়ে গেল।
ইঞ্জিনিয়াররা এমন একটি উপায় খুঁজে বের করলেন যাতে অনেকগুলো ট্রানজিস্টর সিলিকনের একটি ছোট চিপের উপর বসানো যায়, যাকে বলা হয় ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। হাজার হাজার আলাদা ট্রানজিস্টর হাতে জোড়া লাগানোর বদলে, এখন একটি মাত্র চিপ অনেকগুলোর কাজ করতে পারত — এতে কম্পিউটার আরও ছোট হলো, খরচ কমল, আর নির্ভরযোগ্যতাও একই সাথে বাড়ল।
এই প্রজন্মেই কম্পিউটার প্রথমবারের মতো এমন কিছু হয়ে উঠল যার সাথে একজন অপারেটর সরাসরি মিথস্ক্রিয়া করতে পারতেন — কীবোর্ড আর মনিটর ব্যবহার করে, শুধু পাঞ্চ কার্ড আর প্রিন্টআউটের বদলে।
চতুর্থ প্রজন্ম এলো যখন ইঞ্জিনিয়াররা একটি সম্পূর্ণ প্রসেসর — কম্পিউটারের "মস্তিষ্ক" — একটি মাত্র চিপে বসাতে সক্ষম হলেন, যাকে বলা হয় মাইক্রোপ্রসেসর। এটাই ছিল সেই যুগান্তকারী আবিষ্কার যা পার্সোনাল কম্পিউটার-কে সম্ভব করে তুলল — এমন একটি কম্পিউটার যা একটি ঘর জুড়ে না থেকে একটি ডেস্কে, এমনকি পরবর্তীতে একটি কোলে বসার মতো ছোট আর সাশ্রয়ী হয়ে উঠল।
আজ আপনি যে প্রায় প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে কাজ করেন — ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, এমনকি স্মার্ট যন্ত্রপাতি — সবই এই এখনও-চলমান প্রজন্মের ফসল। 1970-এর দশক থেকে যা বদলেছে তা মাইক্রোপ্রসেসরের মূল ধারণা নয়, বরং প্রতিটি নতুন চিপ কতটা ছোট, দ্রুত, আর কম বিদ্যুৎ খরচ করে তৈরি হচ্ছে, সেটাই।
পঞ্চম প্রজন্মের কোনো একক, সর্বসম্মত শুরুর সময় নেই, যেভাবে আগের প্রজন্মগুলোর ছিল, কারণ এটি নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক অংশ দিয়ে নয়, বরং কম্পিউটার আসলে কী করার জন্য তৈরি হচ্ছে তার একটি পরিবর্তন দিয়ে সংজ্ঞায়িত — স্বাভাবিক ভাষা বোঝা, ছবি আর কণ্ঠস্বর চেনা, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র কৌশল ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। এই প্রজন্মের ধারণাগুলো নিয়ে এই অংশের পরের দিকে আরও গভীরে যাওয়া হবে।
একই গল্প, একটি টেবিলে সংক্ষিপ্ত আকারে:
| প্রজন্ম | আনুমানিক সময়কাল | মূল প্রযুক্তি | উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| প্রথম | 1940-এর দশক – 1950-এর দশক | ভ্যাকুয়াম টিউব | ENIAC |
| দ্বিতীয় | 1950-এর দশক – 1960-এর দশক | ট্রানজিস্টর | IBM 1401 |
| তৃতীয় | 1960-এর দশক – 1970-এর দশক | ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট | IBM System/360 |
| চতুর্থ | 1970-এর দশক – বর্তমান | মাইক্রোপ্রসেসর | পার্সোনাল কম্পিউটার, স্মার্টফোন |
| পঞ্চম | বর্তমান আর ভবিষ্যৎ | কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা | ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, AI সিস্টেম |
বছরগুলো আনুমানিক, নির্দিষ্ট সীমা নয়
বিভিন্ন পাঠ্যবই প্রতিটি প্রজন্মের জন্য কিছুটা ভিন্ন শুরু আর শেষের বছর উল্লেখ করে, আর এমন কোনো একক দিন কখনো ছিল না যেদিন পুরো বিশ্ব এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে বদলে গিয়েছিল — পুরনো যন্ত্র বাদ দেওয়ার সময় প্রযুক্তিগুলো বছরের পর বছর একসাথে চলত। উপরের বছরগুলোকে জিনিসগুলো কোন ক্রমে ঘটেছিল তার একটি মোটামুটি নির্দেশিকা হিসেবে দেখুন, কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা হিসেবে নয়।
প্রতিটি প্রজন্মের গল্প আসলে একই ধারণার পুনরাবৃত্তি: কম জায়গায়, কম বিদ্যুৎ খরচ করে, কম খরচে আরও বেশি কম্পিউটিং শক্তি ভরে দেওয়া। পরের পাঠে দেখা হবে আজকের কম্পিউটার আসলে কী দিয়ে তৈরি — এই ইতিহাস যে যন্ত্রগুলো তৈরি করেছে তার ভেতরের শারীরিক হার্ডওয়্যার।